Thursday, October 9, 2025

নিস্তব্ধতার প্রশ্ন

নিস্তব্ধতার প্রশ্ন By Bahadur
Page 1 / 10 মহাকাশের গভীরতা মৈত্রেয়ীর কাছে কেবল দূরত্ব ছিল না; ছিল এক নিরবচ্ছিন্ন কথোপকথন, যার ভাষা ছিল পুরোনো আলোর ফ্রিকোয়েন্সি আর মহাজাগতিক প্রতিধ্বনিতে। প্রতি রাতে হিমালয়ের চূড়ায় স্থাপিত মানমন্দিরের শীতল কক্ষটিতে বসে, সে ধৈর্য ধরে মহাবিশ্বের প্রাচীনতম প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজত।
Page 2 / 10 সেদিনও রাত গভীর। হঠাৎ, তার পর্দায় একটি সংকেত ভেসে উঠল—একেবারে অপ্রত্যাশিত। এটি কোনো পরিচিত পালসার বা ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ছিল না। সংকেতটি ছিল অবিশ্বাস্যভাবে সংক্ষিপ্ত, সুবিন্যস্ত এবং কখনও পুনরাবৃত্তি হয়নি। যেন একটি নিখুঁত, একক প্রশ্ন, যা লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ পাড়ি দিয়ে এসেছে।
Page 3 / 10 ভোরে অধ্যাপক জিষ্ণু, মৈত্রেয়ীর প্রবীণ সহকর্মী, তার প্রাথমিক বিশ্লেষণ দেখলেন। বহু বছরের অভিজ্ঞতায় জিষ্ণু সতর্ক: "মৈত্রেয়ী, মহাকাশ ভরে আছে ছলনাময়ী তথ্যে। নিশ্চিত এটি কেবল কোনো পরিচিত রেডিও তরঙ্গের পরিবেশগত প্রতিধ্বনি। তাড়াহুড়ো করো না।"
Page 4 / 10 কিন্তু মৈত্রেয়ী নিশ্চিত ছিল। সংকেতের ভেতরে লুকানো গাণিতিক ক্রমটি কোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফল হতে পারে না। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে সে শুধু পরিসংখ্যানিক মডেল আর ফিল্টার ব্যবহার করে সেই সংকেতটিকেই বিচ্ছিন্ন করল। সে এর নাম দিল ‘নিস্তব্ধতা’—কারণ এটি এতই নিখুঁত ছিল যে কোনো গোলমাল ছাড়াই ভেসে এসেছিল।
Page 5 / 10 ধীরে ধীরে, সে সংকেতের কাঠামোটি বুঝতে পারল। এটি কোনো সাধারণ বার্তা নয়, বরং একটি জটিল স্থানাঙ্ক। কিন্তু স্থানাঙ্কটি কোনো স্থান বোঝাচ্ছিল না, বরং বোঝাচ্ছিল মহাবিশ্বের এক বিশাল আন্তঃনাক্ষত্রিক পথের দিকনির্দেশ। এটি ছিল একটি পথ বা ‘ম্যাপ’—এক অকল্পনীয় দূরের সভ্যতা থেকে আসা নীরব প্রস্তাবনা।
Page 6 / 10 তার এই ঘোষণা বিশ্বের সামনে নিয়ে যাওয়ার আগে জিষ্ণু তাকে থামালেন। "তুমি জানো এর ফল কী হতে পারে, মৈত্রেয়ী? মানুষ তাদের অস্তিত্বের বিশ্বাসে এমন ধাক্কা সহ্য করতে পারবে না। জ্ঞানদান নয়, তুমি সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারো।"
Page 7 / 10 মৈত্রেয়ী তবু তার আবিষ্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গেল। প্রথম দিকে বিশ্বব্যাপী কৌতূহল দেখা গেলেও, শীঘ্রই তা উপহাস আর ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ঢেকে গেল। অনেক প্রবীণ বিজ্ঞানী তার ডেটাকে "মানসিক ভ্রান্তি" বা "কম্পিউটারের ভুল" বলে খারিজ করে দিলেন।
Page 8 / 10 হতাশ হয়ে মৈত্রেয়ী মানমন্দিরের নিস্তব্ধতায় ফিরে এল। সে আবার ‘নিস্তব্ধতা’ সংকেতটি দেখল। হঠাৎ তার মনে হলো, এটি শুধু পথ দেখাচ্ছে না, এটি আসলে একটি শর্ত। মহাজাগতিক দিকনির্দেশনার এই ম্যাপটি আসলে সেই সভ্যতা সম্পর্কে একটি গভীর জিজ্ঞাসা—আমরা কি সেই পথের যোগ্য? সংকেতটি একটি নীরব প্রশ্ন: "তোমাদের মহাবিশ্বে কি শুধু তোমরাই আছো?"
Page 9 / 10 পরের সকালে, জিষ্ণু মৈত্রেয়ীর কাছে এলেন। রাতের নীরবতা যেন তাঁরও মনের সংশয় ভেঙে দিয়েছে। "তোমার ডেটার মধ্যে এক অনস্বীকার্য সৌন্দর্য আছে, মৈত্রেয়ী। আমি বুঝতে পারছি এটি কোনো ভুল নয়। এখন আমরা কী উত্তর দেব? নাকি প্রশ্নটিকেই প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে?"
Page 10 / 10 পৃথিবী ধীরে ধীরে এই নীরব প্রশ্নটির গভীরতা উপলব্ধি করতে শুরু করল। মৈত্রেয়ী আর জিষ্ণু তখন বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিলেন—তাদের লক্ষ্য আর উত্তর দেওয়া নয়, বরং প্রশ্নটির মূল অর্থ বোঝা। মানবতা সেই মহাজাগতিক প্রশ্নটির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক নতুন অনুসন্ধানের প্রস্তুতি নিল, যা আমাদের নিজেদের অস্তিত্বকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে। Start over

No comments:

Post a Comment

Ограничений на российско-американские запасы оружия больше не будет.

Больше нет ограничений на ядерные арсеналы России и США Последний договор о контроле над ядерными вооружениями между Соединенными Штатами ...