Wednesday, February 4, 2026

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত হওয়া এবং মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজের খুব কাছে ইরানি সশস্ত্র নৌযানের এগিয়ে আসার ঘটনায় এই উত্তেজনা তৈরি হয়। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৫৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬৩ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৩ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের দিন মঙ্গলবারও উভয় সূচকে প্রায় ২ শতাংশ করে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। আইএনজিএর পণ্য কৌশলবিদরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাজারে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ প্রিমিয়াম বিদ্যমান রয়েছে, যা তেলের দামে চাপ তৈরি করছে। মঙ্গলবার আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর খুব কাছে একটি ইরানি ড্রোন ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ উড়ে এলে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে মার্কিন সেনাবাহিনী। একই দিন সামুদ্রিক সূত্র এবং একটি নিরাপত্তা পরামর্শক সংস্থা জানায়, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালিতে একদল ইরানি গানবোট ওমানের উত্তরে একটি মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসে। এদিকে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা তুরস্কে নয়, ওমানে হওয়া উচিত এবং আলোচনার পরিধি কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকা দরকার। এতে বৈঠকটি পরিকল্পনা অনুযায়ী আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। রাকুটেন সিকিউরিটিজের পণ্য বিশ্লেষক সাতোরু ইয়োশিদা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই বর্তমানে তেলের বাজারকে সমর্থন জোগাচ্ছে। উল্লেখ্য, ওপেকভুক্ত সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক তাদের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই রপ্তানি করে, যার প্রধান গন্তব্য এশিয়ার বাজার। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান ছিল ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বড় আকারে কমে যাওয়ায় দামের পক্ষে বাড়তি সমর্থন মিলেছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি কমেছে। যদিও বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে, রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকরা মজুত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তির খবরও তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় রাশিয়ার তেলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। সাতোরু ইয়োশিদা বলেন, “ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি, যার ফলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা সীমিত হতে পারে, এবং চলমান রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ—এই দুই বিষয়ই তেলের দামকে সমর্থন দিচ্ছে। আপাতত ডব্লিউটিআই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলারের আশপাশে লেনদেন হতে পারে।”

No comments:

Post a Comment

إيران تعلن مسؤوليتها عن الهجوم على البحرين، وتزعم تدمير قاعدة أمريكية

 إيران تعلن مسؤوليتها عن الهجوم على البحرين وتزعم تدمير قاعدة أمريكية زعمت إيران تدمير قاعدة جوية أمريكية في البحرين. وقد ورد هذا الخبر في ...