Monday, October 6, 2025

ছাদের উপর রহস্য

ছাদের উপর রহস্য
Page 1 / 10 শহর কলকাতার এক ঘিঞ্জি গলির মধ্যে, তিনতলা একটি পুরনো বাড়ির ছাদে পাওয়া গেল সতেরো বছরের কিশোরী অনামিকার নিথর দেহ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন সিআইডি অফিসার দেবাশিস।
Page 2 / 10 প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছিল, কোনও ধস্তাধস্তি হয়নি। কিন্তু দেবাশিসের তীক্ষ্ণ চোখ একটি অতি ক্ষুদ্র, সাদা তুলোর তন্তু খুঁজে পেল— দেহের কাছেই, একটি মরচে-পড়া পেরেকে আটকে ছিল সেটি। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেল, শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে।
Page 3 / 10 দেবাশিস নিচে নামলেন অনামিকার বাবা প্রণবের সাথে কথা বলতে। প্রণববাবু বিমর্ষ, তাঁর ছোট, অপরিচ্ছন্ন ঘরে বসে তিনি জানালেন, অনামিকা খুব শান্ত মেয়ে ছিল, কোনো শত্রু ছিল না। সে রোজ রাতে ছাদে যেত কেবল তারা দেখতে।
Page 4 / 10 নিজের আলিবাই হিসেবে প্রণববাবু বললেন যে তিনি রাতে তাঁর নিজের দ্বিতীয় তলার ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করলেন, এক মাস আগে অনামিকার একটি গোপন মোবাইল ফোন তিনি কেড়ে নিয়েছিলেন।
Page 5 / 10 দেবাশিস এবার তৃতীয় তলার এক প্রতিবেশীর সাথে কথা বললেন। প্রতিবেশীর মুখ দেখে বোঝা গেল সে খুব ভয়ে আছে। সে ফিসফিস করে জানাল, রাত দুটো নাগাদ ছাদ থেকে সে একটি অদ্ভুত, ছন্দে-বাঁধা 'টানটান' শব্দ শুনেছিল— চিৎকারের শব্দ নয়, যেন কিছু টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
Page 6 / 10 তন্তুটিকে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছিল। রিপোর্ট আসতেই দেবাশিস চমকে গেলেন। ওটা কোনো সাধারণ সুতো নয়— এটি একটি দুষ্প্রাপ্য, উচ্চ মানের, ব্লিচ না করা তুলোর তন্তু, যা সাধারণত দামী আমদানি করা ধুতি বা এক বিশেষ ধরণের দর্জির লাইনিং কাপড়ে ব্যবহার হয়।
Page 7 / 10 দেবাশিস গেলেন প্রণববাবুর দর্জির দোকানে। চারপাশে সুতোর রিল আর কাপড়ের টুকরো ছড়ানো। সাধারণ কাপড়ের স্তূপের নিচে একটি ওয়ার্কবেঞ্চের কোণে তাঁর চোখ গেল— সেখানে পড়ে আছে সেই বিশেষ ধরণের, দামি, আনব্লিচড সুতির লাইনিং কাপড়ের একটি রোল।
Page 8 / 10 দেবাশিস বুঝতে পারলেন, প্রতিবেশীর শোনা 'টানটান' শব্দটি কোনো দেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার শব্দ ছিল না। বরং, শক্ত সুতির লাইনিং দিয়ে শ্বাসরোধ করার সময় সেই কাপড়ের ঘর্ষণ শব্দই প্রতিবেশীর কানে গিয়েছিল। ধস্তাধস্তির সময় লাইনিং থেকেই তন্তুটা ছিঁড়ে গিয়েছিল।
Page 9 / 10 দেবাশিস সরাসরি প্রণববাবুর মুখোমুখি হলেন। "আপনি অনামিকার ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন, কারণ আপনি জেনে গিয়েছিলেন ও কার সাথে কথা বলত," দেবাশিস বললেন। প্রণববাবু মেয়ের পছন্দের পাত্রকে মেনে নিতে না পেরে রাগের মাথায় সেই লাইনিং কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করেন। Page 10 / 10 প্রণববাবু নিজের অপরাধ স্বীকার করলেন, অনুশোচনায় তাঁর মুখ নীল। তিনি ভেবেছিলেন, তিনি তাঁর মেয়ের 'সম্মান' রক্ষা করছেন। দেবাশিস জানলার বাইরে তাকালেন— সূর্য এখন পুরোপুরি উঠেছে। ভুল ভালোবাসার এমন করুণ পরিণতি দেখে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। S

No comments:

Post a Comment

Ограничений на российско-американские запасы оружия больше не будет.

Больше нет ограничений на ядерные арсеналы России и США Последний договор о контроле над ядерными вооружениями между Соединенными Штатами ...