Sunday, February 1, 2026

আজই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র!

আজই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর নেতৃত্বকে এরইমধ্যে এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এই হামলা শুরু হতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ। আরব সরকারগুলোর পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন সাবেক এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘এই হামলা পারমাণবিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে নয়। এটি মূলত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।’ তিনি ড্রপ সাইট নিউজকে বলেন, মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীরা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ‘ব্যালিস্টিক এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। তবে এর লক্ষ্য হলো ইরানের সরকার, বিশেষ করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আআরজিসি) নেতৃত্ব এবং সক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়া।’ আইআরজিসি হলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি শাখা যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তৈরি হয়েছিল এবং যার নেতৃত্ব এখন দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা সফল হলে প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে আসবে। ফলে সরকার উৎখাত হবে। আরও পড়ুন: ইরান নিয়ে ট্রাম্পের গোপন পরিকল্পনা, অন্ধকারে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা! সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানে মার্কিন হামলার অপেক্ষায় আছেন। ট্রাম্পকে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইরানে পশ্চিমাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ একটি নতুন সরকার গঠনে ইসরাইল সহায়তা করতে পারবে। দুজন জ্যেষ্ঠ আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্রপ সাইটকে জানিয়েছেন, তারা খবর পেয়েছেন যে যেকোনো মুহূর্তে ইরানে মার্কিন হামলা হতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক দেশগুলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেয়ার জন্য তুর্কি নেতাদের সাথে দেখা করেছেন। এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও একটি আলোচনার কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা: ৮২ মেট্রো স্টেশন ও ৩০০ পার্ককে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা ইরানের স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে লারিজানি বলেন, কৃত্রিম মিডিয়া যুদ্ধের ডামাডোলের বাইরেও আলোচনার একটি কাঠামো গঠনের কাজ এগোচ্ছে। তবে এই কাঠামো বা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, ইরান নিয়ে তার সবশেষ চিন্তাভাবনা কী? শুরুতে কোনো জবাব না দিতে চাইলেও পরে তিনি বলেন, আমরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সম্পদ জোরদার করেছি। আশা করি তারা (তেহরান) এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে যা গ্রহণযোগ্য। হামলা না হলে ইরান আরও উৎসাহিত হতে পারে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ কেউ এটা মনে করতে পারে। আবার কেউ কেউ এটা মনে করে না।’ ট্রাম্পের দাবি ইরান নয়, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, নিকট ভবিষ্যতে ভারত ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনবে। এমন একটি চুক্তির ধারণা নাকি এরইমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে। সে সময় তিনি ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ফ্লোরিডার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন। খবর রয়টার্সের। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যেই এই চুক্তিটি করেছি, চুক্তির ধারণা তৈরি হয়েছে। ভারত আসছে এবং তারা ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে।’ তিনি আরও বলেন, চীনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি তেল চুক্তি করতে স্বাগত। এই মন্তব্যের একদিন আগে ওয়াশিংটন দিল্লিকে জানিয়েছে যে ভারতে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি শিগগিরই শুরু হতে পারে, যাতে রাশিয়ার তেল আমদানি কমিয়ে আনা যায়। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিল কমানো, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান সম্পর্ক ভালো হলেও গত ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার আগে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল সাপে-নেইলে। ভেনেজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশের তেল কেনায় ভারতের ওপর গত বছরের মার্চে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও ভারতের সরকার এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং গ্লোবাল সাউথের শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে, বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যবাহী তেলের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।

No comments:

Post a Comment

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। হরম...