Friday, February 6, 2026

ট্রাম্পের ‘ক্রিপ্টো-বান্ধব’ নীতি কি প্রত্যাশা পূরণ করছে?

### ট্রাম্পের ‘ক্রিপ্টো-বান্ধব’ নীতি কি প্রত্যাশা পূরণ করছে? প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর শুরুতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সেই আশাবাদ অনেকটাই কমে এসেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দরপতনের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—তার ঘোষিত ‘ক্রিপ্টো-বান্ধব’ নীতিগুলো আদৌ কতটা কার্যকর হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক বিটকয়েন সম্মেলনে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বিটকয়েনের জন্য কৌশলগত রিজার্ভ গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ২০২৫ সালের মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জাতীয় কৌশলগত ক্রিপ্টো রিজার্ভ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে বিটকয়েন ও ইথারের পাশাপাশি এক্সআরপি, কার্ডানো ও সোলানার মতো ডিজিটাল সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে স্টেবলকয়েন খাতের জন্য ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’ নামে একটি নীতিমালা উদ্যোগ এবং ক্রিপ্টো বাজারে নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির খসড়া প্রকাশ করা হয়, যা আইনে পরিণত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর এখতিয়ার আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আগ্রহও ক্রিপ্টো খাতে আলোচিত। তার পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ ‘ইউএসডি১’ নামে একটি ডলার-সংযুক্ত স্টেবলকয়েন চালু করেছে বলে জানা যায়। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ থেকে ক্রিপ্টো বাজারকে আলাদা রাখা যায়নি। ইতিহাস বলছে, বিটকয়েনসহ ক্রিপ্টো সম্পদের দাম নীতিগত সমর্থনের পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি, সুদের হার ও বাজার আস্থার ওপরও নির্ভর করে। ২০১৮ সালে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ২০২২ সালে এফটিএক্স এক্সচেঞ্জ কেলেঙ্কারির পর বড় ধসের মতো ঘটনাও তার উদাহরণ। সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিকেও একটি কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের মতো সিদ্ধান্ত বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্রিপ্টো বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এমন মন্দা বা ‘ক্রিপ্টো উইন্টার’ সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কয়েক মাসের স্থবিরতার পর বাজার আবার ঘুরে দাঁড়ায়। তাদের ভাষায়, বর্তমান দরপতন বিনিয়োগকারীদের হতাশ করলেও ক্রিপ্টো সম্পদের মৌলিক ভিত্তিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ঘোষিত নীতিগুলো বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করলেও বাস্তবে ক্রিপ্টো বাজার এখনো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপরই বেশি নির্ভরশীল। ফলে নীতিগত সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

No comments:

Post a Comment

ট্রুথ সোশ্যালের বর্ণবাদী ভিডিও নিয়ে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি ট্রাম্পের

ট্রুথ সোশ্যালের বর্ণবাদী ভিডিও নিয়ে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্...